দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারের ৩৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও সামুদ্রিক জোয়ারে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ধস ও ঢলের পানিতে ডুবে জেলায় ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাসহ ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে চকরিয়া, মাতামুহুরী, পেকুয়া, রামু, ঈদগাঁও, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে জোয়ারের প্রভাবে টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলার উপকূলীয় কয়েকটি গ্রামেও পানি প্রবেশ করেছে।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চার দিন ধরে রেললাইনের ওপর পানি থাকায় কক্সবাজারের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। একই সময়ে কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথও বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে সেন্ট মার্টিন রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
গতকাল কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের চেইন্দা এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে সড়ক তলিয়ে যায়। চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোও পানিতে ডুবে রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার। পেকুয়া উপজেলার প্রায় সব সড়কও পানির নিচে রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) খোলা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ, ঢালু এলাকা ও বন্যাকবলিত নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। অতিরিক্ত শুকনো খাবারের চাহিদাও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ঢেউটিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং সব উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এমএম/